অপ্রতিম হত্যার আগে সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ PM , আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ PM
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। নিখোঁজের প্রায় একদিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে রাতে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
অপ্রতিম নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরাও তাকে খুঁজতে বের হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অপ্রতিমকে দেখা যায়। ওই সময় তার সঙ্গে ক্যাপ পরা বয়সে বড় এক ব্যক্তিকেও দেখা যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ফুটেজে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে বলে জানান উপাচার্য।
শনিবার স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার ভাতিজা লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে কাজ করতে গিয়ে অপ্রতিমের মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল কাদির জিলানী জানান, তার ভাতিজা প্রথমে জঙ্গলের মধ্যে একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে খবর দেয়। কাছে গিয়ে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে তারা ভয় পেয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনকে কেন্দ্র করে কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।