আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল
  © সংগৃহীত

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালটির একটি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করে।

আদেশে আরও বলা হয়, নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে আবেদন করে। পরে মঙ্গলবার (৯ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে শোকজ নোটিশের জবাব জমা দেয়।

কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’র ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

তবে একই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না; পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো। ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা জন্মের পর সুস্থ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, প্রসব-পরবর্তী জটিলতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


মন্তব্য