যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে বাড়তি খরচ
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৭ PM , আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৭ PM
বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এ ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদও শেষ হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্কনীতি পুনর্বহালের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ‘পারস্পরিক (রেসিপ্রোক্যাল)’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নোটিশে নতুন শুল্কের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ এই শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় পড়বে। তবে তেল ও গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্য এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।
নতুন শুল্ক ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও প্রায় সব আমদানির ওপর একটি ন্যূনতম শুল্ক বহাল রাখতে এই আইনি কাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, অতীতের বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জেও সেকশন ৩০১ বহাল থাকায় নতুন এই শুল্ক আগের তুলনায় কম আইনি ঝুঁকিতে থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প ১৫০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মেয়াদ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হয়। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে আসছে। এখন সময় এসেছে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করবে। তার দাবি, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
এর আগে গ্রিয়ার জানিয়েছিলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে এবং যেখানে সর্বোচ্চ শুল্কহার নির্ধারিত আছে, নতুন ‘ফোর্সড লেবার’ শুল্ক সেই সীমা অতিক্রম করবে না।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন)’ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্যকর শুল্কহার দাঁড়াবে ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ ছাড়া বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। তবে বেইজিং বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির সমঝোতা অনুযায়ী ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চীনা পণ্যের ওপর শুল্কহার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত পুনর্বহালের পরিকল্পনা রয়েছে, এর বেশি নয়।
উল্লেখ্য, নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ছাড়া চীনা পণ্যের কার্যকর শুল্কহার ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল।