হিমসিম ক্রেতারা

বাজার
  © সংগৃহীত

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের মাছ ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাড়তি বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম পড়ছে কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা। ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও এলাকাভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এক মুরগি বিক্রেতা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি।

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পোয়া ২৬০ টাকা ও শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। আর রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিতে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।

রায়ের বাজারের এক ক্রেতা বলেন, মাছ কিনতে এসে এখন রীতিমতো অবাক হতে হচ্ছে। ২৫০ টাকার নিচে মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তেলাপিয়াও আড়াইশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এক মাছ বিক্রেতার ভাষ্য, মাছের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। তবে একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যাচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ, মুরগি ও ডিম তিনটি পণ্য কিনতেই এখন বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। আয় আগের তুলনায় না বাড়লেও প্রতিদিনই বাড়ছে বাজার খরচ। ফলে আগে যে অর্থে এক সপ্তাহের বাজার করা সম্ভব হতো, এখন তা কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


মন্তব্য