বিদ্যুতে বাংলাদেশের ওপর নতুন চার্জ ভারতের
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ PM , আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ PM
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের ওপর নতুন ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি’ (এসএনএ) চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে। এর ফলে আমদানি করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত ০.০০৫ ভারতীয় রুপি ব্যয় হবে বাংলাদেশের।
বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের বাইরে এই চার্জ দিতে হবে। গ্রিড পরিচালনা, বিদ্যুৎ সরবরাহের শিডিউলিং, মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের আর্থিক নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতেই এসএনএ চার্জ নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট এ চুক্তির বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ভারত প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১ ভারতীয় পয়সা এসএনএ চার্জ দাবি করেছিল। পরে বিপিডিবির দরকষাকষির পর তা কমিয়ে প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি বা আধা পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ভারতের বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী এ ধরনের চুক্তি করা প্রয়োজন। চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্ব হলে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘণ্টায় দিতে হবে ৫ হাজার ৮০০ রুপি
বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এসএনএ চার্জ প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ বাণিজ্যে এই হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের বিদ্যমান বিদ্যুৎ বাণিজ্যে প্রযোজ্য চার্জও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পূর্ণ সক্ষমতায় এক ঘণ্টায় আমদানি হলে প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি হিসাবে ওই পরিমাণ বিদ্যুতের জন্য ঘণ্টায় এসএনএ চার্জ দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮০০ ভারতীয় রুপি।
মূলত এটি বিদ্যুতের দাম নয়। আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা ও লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য নেওয়া একটি পৃথক চার্জ।
কী কাজে ব্যবহৃত হবে এসএনএ চার্জ
ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) বিধিমালা অনুযায়ী, এসএনএ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ লেনদেনের সময়সূচি সমন্বয়, গ্রিড-সংক্রান্ত বিভিন্ন চার্জ, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম-বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের ডেভিয়েশন চার্জ, রিঅ্যাক্টিভ এনার্জি চার্জসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নিষ্পত্তির কাজে ভূমিকা রাখে।
ভারতের আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে পৃথক একটি কন্ট্রোল এরিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং ও সেটেলমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। মূল বিদ্যুৎ ট্যারিফের বাইরে গ্রিড ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ই এসএনএ চার্জের আওতায় পড়বে।
১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য চুক্তি
বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।
এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।
এই পাঁচটি উৎসের মোট ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যই মূলত নতুন এসএনএ চার্জ সংক্রান্ত চুক্তি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আদানি পাওয়ারের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বিপিডিবির। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তার ভাষ্য, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।