ভারত থেকে আসছে গম
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ PM , আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ PM
কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়েছে, একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবারও গম আমদানির জন্য ভারতের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষ দিকে ভারত গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ শিথিল করার পর থেকে বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা দুই লাখ টনের বেশি ভারতীয় গমের জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন। ২০২২ সালের পর বাংলাদেশে ভারতীয় গমের এটিই প্রথম বড় চালানের এলসি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম রপ্তানিকারক অঞ্চল কৃষ্ণসাগর থেকে শস্য পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবেই বাংলাদেশ গম আমদানির উৎসে আবারও পরিবর্তন আনছে।
বাংলাদেশকে বছরে ৭০ লাখ টনের বেশি গম আমদানি করতে হয়। ২০২২ সালের মে মাসে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করার আগে দেশের মোট গম আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই আসত ভারত থেকে।
পরে আর্জেন্টিনা, কানাডা, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশ। এর মধ্যে মোট আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসত কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
রেলপথে আসবে বেশির ভাগ গম
ব্লুমবার্গের সঙ্গে কথা বলা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় গমের বেশির ভাগ চালান রেলপথে আসতে পারে। পরিবহন খরচসহ প্রতি টন গমের দাম পড়তে পারে ৩০৫ থেকে ৩২৬ ডলারের মধ্যে।
সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার আমদানিকারকেরাও জাহাজীকরণের আগে প্রতি টন ৩২৫ ডলার দরে প্রায় ৬০ হাজার টন ভারতীয় গম কিনেছেন।
সীমিত পরিসরে রপ্তানি অনুমতি ভারতের
তীব্র দাবদাহের কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়া, স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ২০২২ সালের মে মাসে গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত। এর ফলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চালান বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় চার বছর পর ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কোটার আওতায় আবার সীমিত পরিসরে গম রপ্তানির অনুমতি দিতে শুরু করেছে দেশটি।
এদিকে দেশে গমের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়েও। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ঢাকায় ময়দার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে। চালের পর গম বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য হওয়ায় গমের দাম বাড়লে তা জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলভিত্তিক শস্য গবেষণা প্রধান ভ্লাদিমির জিনকোভস্কি ব্লুমবার্গকে বলেন, বাংলাদেশের জন্য মূল উদ্বেগ গমের সহজলভ্যতা নয়, বরং তা কেনার সক্ষমতা। গমের দাম বাড়লে ভোক্তারা বিকল্প হিসেবে চালের ব্যবহার বাড়াতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: ব্লুমবার্গ