ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির প্রত্যাশা
- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ AM , আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ AM
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেডের আর্থিক পারফরম্যান্সে চলতি অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৭৮ পয়সায়, যা আগের অর্থবছরের পুরো বছরের ইপিএস ৪ টাকা ১৮ পয়সার চেয়ে ৩ টাকা ৬০ পয়সা বেশি।
কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুনাফার পাশাপাশি পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যেও (এনএভি) উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
প্রথম প্রান্তিকেই প্রায় চারগুণ ইপিএস
২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ফাইন ফুডসের ইপিএস ছিল ৬২ পয়সা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৫৭ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে প্রায় চার গুণ।
এ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ১৯ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৬১ পয়সা। প্রথম প্রান্তিক শেষে শেয়ারপ্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ২২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ টাকা ৯৩ পয়সা।
ছয় মাসে ইপিএস ৫ টাকা ১৬ পয়সা
২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা।
ফলে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ফাইন ফুডসের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৮১ পয়সা।
ছয় মাসে এনওসিএফপিএস বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা, যা আগের বছরের ৬৬ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। এ সময়ের শেষে এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৫৫ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুনে এ সূচক ছিল ১৪ টাকা ৬৫ পয়সা।
৯ মাসে ইপিএস বেড়েছে ৮৯ শতাংশ
২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ফাইন ফুডসের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৩১ পয়সা।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৭৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ ইপিএস ছিল ৪ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৯ মাসে ইপিএস বেড়েছে ৩ টাকা ৬৬ পয়সা বা প্রায় ৮৯ শতাংশ।
এনওসিএফপিএসও একই সময়ে ১ টাকা ৫৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠেছে। আর ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৭ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুনে যা ছিল ১৪ টাকা ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ এ সময়ে এনএভি বেড়েছে ৬ টাকা ৫৯ পয়সা।
বিক্রয় বাড়ায় মুনাফায় প্রভাব
কোম্পানির পক্ষ থেকে ইপিএস বৃদ্ধির পেছনে মোট বিক্রয় রাজস্ব বাড়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন পোলট্রি ফার্ম স্থাপন এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কৃষি ও খাদ্য-সম্পর্কিত ব্যবসায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবসায়িক কার্যক্রম কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সেগুলো কোম্পানির রাজস্ব ও মুনাফায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ডিভিডেন্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ
২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল ফাইন ফুডস। আগের বছর ২০২৪ সালে এ ডিভিডেন্ড ছিল ১০ শতাংশ।
এবার ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ইপিএস ৭ টাকা ৭৮ পয়সায় পৌঁছানোয় ডিভিডেন্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে শুধু ৯ মাসের ইপিএসের ভিত্তিতে ডিভিডেন্ডের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
চূড়ান্ত মুনাফা, নগদ প্রবাহ, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা, কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই ডিভিডেন্ড নির্ধারণ করা হবে।
সিদ্ধান্ত আসছে ৭ অক্টোবর
ফাইন ফুডসের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২৬। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সভায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে ডিভিডেন্ড ঘোষণাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন কোম্পানিটির চূড়ান্ত বার্ষিক আর্থিক ফল এবং ডিভিডেন্ড ঘোষণার দিকে। নয় মাসের শক্তিশালী পারফরম্যান্স পুরো অর্থবছরে কতটা বজায় থাকে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।