যে শর্তে বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট:
- প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৩ PM , আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৩ PM
ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং আর্থিক খাতের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২’ প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন করা হচ্ছে।
প্রতি ডলার ১২৪ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
এ ঋণের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসমে চুক্তিতে সই করেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইআরডি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ও তদারকি জোরদার
বিশ্বব্যাংকের এ অর্থায়নের মূল লক্ষ্য দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পের আওতায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের তদারকি কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং প্রযুক্তিগত কাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্ত (পিবিসি) পূরণের মাধ্যমে আর্থিক খাতের সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রমেও সহায়তা দেওয়া হবে।
আমানত সুরক্ষা ও ব্যাংক পুনর্গঠনে গুরুত্ব
প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশন কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের সংকট মোকাবিলা এবং আর্থিক খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যাংকিং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানো এবং আর্থিক খাতের কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করাও প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঋণ পরিশোধে ২৫ বছর, রেয়াতকাল পাঁচ বছর
বিশ্বব্যাংকের এ ঋণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুযোগ। চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের ওপর বার্ষিক দেড় শতাংশ সুদ দিতে হবে। অন্যদিকে, উত্তোলন না করা ঋণের অর্থের ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।
ঋণ পরিশোধের মোট মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর রেয়াতকাল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ঋণের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত রেয়াতকাল শেষে মূল ঋণ পরিশোধের পর্যায় শুরু হবে।
দীর্ঘ পরিশোধকাল ও রেয়াতকালের কারণে সরকার ঋণের অর্থ ব্যবহার করে প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সময় পাবে।
বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংস্থাটি বাংলাদেশকে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২’ প্রকল্পের আওতায় নতুন এ অর্থায়ন দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদারে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতার অংশ। তবে প্রকল্পটির সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত কার্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর।