পূর্ণিমার নতুন ইচ্ছা

পূর্ণিমা
  © ফাইল ছবি

প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে দিলারা হানিফ পূর্ণিমা দর্শকের কাছে পরিচিত হয়েছেন রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে। সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা ও পর্দায় সাবলীল উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি ঢালিউডে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের সেই পরিচিত ইমেজ থেকে বেরিয়ে এবার নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি নিজের অভিনয়জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পূর্ণিমা জানান, ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও এখনো নেগেটিভ বা খল চরিত্রে কাজ করার সুযোগ হয়নি। দর্শকের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে হাজির হওয়ার ইচ্ছা থেকেই এমন একটি শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

পূর্ণিমা বলেন, ‘সবাই আমাকে রোমান্টিক লুক, সুন্দরী নায়িকা ও পরিপাটি ইমেজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন যদি এর সম্পূর্ণ বিপরীত কোনো চরিত্রে আমাকে দেখা যায়, তাহলে সেটি আমার জন্য দারুণ হবে। আমার খুব ইচ্ছে নেগেটিভ চরিত্র বা ভিলেন ধরনের কোনো চরিত্রে অভিনয় করার। এমন একটি চরিত্র করতে চাই, যেটি দেখে দর্শকের মধ্যে সেই চরিত্রের প্রতি ঘৃণা তৈরি হবে। আমাকে নিয়ে এমন চরিত্র কেউ কখনো ভাবেনি।’

মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন পূর্ণিমা। ১৯৯৮ সালের ১৫ মে মুক্তি পাওয়া জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এতে রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করে প্রথম ছবিতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।

এরপর একের পর এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন পূর্ণিমা। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘যোদ্ধা’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘সুলতান’, ‘পিতা-মাতার আমানত’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘বাঁধা’ ও ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’।

ঢালিউডের প্রায় সব শীর্ষ নায়কের বিপরীতে অভিনয় করে নব্বইয়ের শেষ ভাগ থেকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

বর্তমানে আগের মতো নিয়মিত বড় পর্দায় দেখা না গেলেও অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি পূর্ণিমা। তাঁর অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সর্বশেষ ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ চলচ্চিত্রে দেখা গেছে তাঁকে।

এরই মধ্যে নতুন সিনেমার প্রস্তাবও পাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। তবে শুধু কাজের সংখ্যা নয়, এখন গল্প ও চরিত্রের গুরুত্বকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। নিজের অভিনয়জীবনের নতুন অধ্যায়ে এমন একটি চরিত্রের অপেক্ষায় আছেন, যা দর্শকের কাছে তাঁকে নতুন পরিচয়ে তুলে ধরবে।

আর সেই নতুন পরিচয়ের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা একটি শক্তিশালী নেতিবাচক চরিত্র, যেখানে পূর্ণিমার এতদিনের পরিচিত ইমেজকে ভেঙে একেবারে অন্যভাবে আবিষ্কার করবেন দর্শক।


মন্তব্য