নিজের তন্বী গড়নের কারণ জানালেন জয়া
- বিনোদন ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ PM , আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ PM
জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সম্প্রতি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’-তে অভিনয়ের জন্য দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে পর্দায় নিজেকে ফিট ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য তার জীবনযাপন অনেকটাই ব্যতিক্রমী। নিয়মিত জিমে না গিয়ে তিনি শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে ভরসা করেন চাষাবাদ ও কায়িক শ্রমের ওপর।
জয়া জানান, ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার শুটিং শুরুর কয়েক মাস আগে তিনি কিছুদিন জিমে গিয়ে পিলাটিজ অনুশীলন করেছিলেন। তবে নিয়মিত জিমে যাওয়ার অভ্যাস তার নেই।
এ বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, “জিম করা যে দরকার, তা আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু নিয়মিত জিম করা হয় না। সবাই নিজের মতো করে ফিট থাকার চেষ্টা করেন। আমি চাষাবাদ করি। মাটি তৈরি করা, প্রয়োজন হলে কোদাল দিয়ে মাটি কোপানো-এসব কাজই করি।”
জয়ার বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়। নিজের উৎপাদিত সবজি দিয়েই রান্না করা খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার নিয়ে দুশ্চিন্তাও থাকে না। নিজের হাতে ফলানো খাবারই তার খাদ্যতালিকায় সবচেয়ে বেশি স্থান পায়।
তবে বাইরের খাবার একেবারেই যে খান না, তা নয়। জয়ার পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে পিৎজা। যদিও জাঙ্ক ফুড নিয়মিত খান না, তবে কখনো খেলে তা নিয়ে অপরাধবোধেও ভোগেন না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাঝেমধ্যে জাঙ্ক ফুড খেলে সেটা নিয়ে অপরাধবোধে ভুগি না। আমার মনে হয়, শরীরের পাশাপাশি মনকেও খাওয়ানো দরকার। সবসময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকলে খাবার উপভোগই করা যায় না।”
পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের মতে, চাষাবাদ নিজেই একটি কার্যকর শারীরিক ব্যায়াম। তিনি বলেন, নিয়মিত কৃষিকাজ করলে শুধু ক্যালোরিই ঝরে না, পেশিও শক্তিশালী হয় এবং শরীরের স্বাভাবিক টোনিং হয়। পাশাপাশি সূর্যের আলো থেকে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আদিম যুগে মানুষ জিমে যেত না। ক্ষেতের কাজ, মাছ ধরা, শিকারসহ নানা ধরনের কায়িক শ্রমই তাদের সুস্থ রাখত। বর্তমান সময়েও যত বেশি শারীরিক পরিশ্রম করা যাবে, শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম তত ভালোভাবে সম্পন্ন হবে।
পুষ্টিবিদের মতে, নিজের হাতে ফলানো সবজি খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি বাগান করা বা চাষাবাদের মতো কাজ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এসব কাজে শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসরণ বাড়ে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমে, ফলে মানসিক প্রশান্তি ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
যাদের চাষের জমিতে কাজ করার সুযোগ নেই, তারা বড় পরিসরে বাগান করতে পারেন বা খোলা জায়গায় নিয়মিত হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরকে সক্রিয় রাখতে পারেন বলেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।