বাঁধনের ওপর হামলা করেন কারা?
- বিনোদন ডেস্ক
- প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ PM , আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ PM
ইতালির মেস্ত্রে শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর মেস্ত্রের একটি পার্কের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের উদ্দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য করতে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে চাপ প্রয়োগ করতে শোনা যায়। তাদের একজন নিজেকে ‘ইতালির ছাত্রলীগ’ পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ থেকে যেকোনো প্রান্তে আসা ব্যক্তিদের প্রতিহত করার কথাও বলেন।
ভিডিওতে চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে একজনকে নিজের সঙ্গে শিশু থাকার কথা জানিয়ে এসব আচরণ বন্ধ করতে বলতে শোনা যায়।
পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন অভিযোগ করেন, ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে মেস্ত্রের একটি পার্কে ঘুরতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তার দিকে কোক ও ডিম ছোড়া হয়। একপর্যায়ে তার মুঠোফোনও ছুড়ে ফেলা হয়।
ঘটনার সময় ‘মনিরুল হাওলাদার’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুকে লাইভ করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। ওই লাইভের ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘জুলাই জঙ্গি আজমেরী হক বাঁধনকে আমরা উত্তম মাধ্যম দিয়েছি ভেনিসে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা।’
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এই মনিরুলের বাড়ি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলায়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও মনিরুলের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের কাউকে বাঁধনের গায়ে পানি ছুড়তে, কাউকে শাসাতে, কাউকে হামলার দৃশ্য ধারণ করতে এবং কাউকে শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
ভিডিওতে বাঁধনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বারবার পানি ছুড়ে দিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তির নাম শিপল মাহমুদ বিপ্লব। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুরে। শরীয়তপুরের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত।
ভিডিওতে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের একজন ইলিয়াস মিয়ার পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ইলিয়াসের উপস্থিতির একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে।
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ইলিয়াস এগিয়ে গিয়ে বাঁধনকে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আঘাত লাগে অভিনেত্রীর হাতে। তখন বাঁধনের মুঠোফোন হাত থেকে পড়ে যায়।
ভিডিওতে বাঁধনের আশপাশে থাকা এবং তাঁকে একাধিকবার শাসাতে দেখা যায় কয়েকজনকে। তাঁদের একজন আলতাফ পাহাড়। তাঁর বাড়ি শরীয়তপুরে। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিসে যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, এমন তথ্যও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে আলতাফকে অপেক্ষাকৃত সামনের সারিতে দেখা যায়। কয়েকটি দৃশ্যে তিনি বাঁধনকে শাসাচ্ছেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা গেছে।