সীমান্ত নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ২ দেশের সংঘর্ষ
- আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫, ১২:৫১ PM , আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৫, ১২:৫১ PM

সীমান্ত নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা আমাদের কাছে পরিচিত। তবে এবার এশিয়ার আরও দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাদের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। উভয় দেশই একে অপরকে প্রথমে গুলি চালানোর জন্য দায়ী করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েই চলছিল, তার মধ্যেই এই সংঘর্ষ ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে এক বিবৃতিতে থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কম্বোডিয়ান সেনারা তা মোয়ান থম মন্দিরের কাছে একটি বিতর্কিত এলাকায় প্রথম গুলি চালায়। তারা দাবি করেছে, গুলির আগে কম্বোডিয়া ওই এলাকায় একটি ড্রোন পাঠায়, এরপর ভারী অস্ত্রসহ সৈন্য মোতায়েন করে।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, থাই সেনারা বিনা উসকানিতে সীমান্তে ঢুকে পড়ে এবং কম্বোডীয় বাহিনী আত্মরক্ষার জন্য জবাব দিয়েছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, এই সংঘর্ষের আগে থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ায় নিযুক্ত নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয় এবং জানায়, কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে দেশ ছাড়তে বলা হবে। কারণ, সম্প্রতি বিতর্কিত ওই এলাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইজন থাই সেনা ল্যান্ডমাইনে পা হারিয়েছেন।
থাই কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এই মাইনগুলো পুঁতে রাখা হয়েছে। তবে কম্বোডিয়া এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
কম্বোডিয়ায় কয়েক দশকের পুরোনো গৃহযুদ্ধের সময়কার লাখ লাখ অবিস্ফোরিত ল্যান্ডমাইন এখনও রয়ে গেছে বলে জানায় মাইন অপসারণকারী সংস্থাগুলো। ফলে সীমান্ত এলাকায় এখনও এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজমান।
মূলত থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্তে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়, বিশেষ করে প্রাচীন মন্দির ঘিরে থাকা এলাকায়। কারণ এগুলোকে দুই দেশই নিজেদের বলে দাবি করে থাকে। এর আগে ২০০৮-২০১১ সালেও এই দুই দেশের সেনারা প্রাহ বিহার এবং তা মোয়ান থম মন্দির ঘিরে বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।