অনশনে ফিলিস্তিনের ৬০ নারী
- আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
- প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০১:৩৬ PM , আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০১:৩৮ PM

ফিলিস্তিনের মাসাফার ইয়াত্তা সম্প্রদায়ের ৬০ জন নারী অনশন করছেন। এক সপ্তাহ আগে একজন ইসরায়েলি বসতকারী কর্তৃক গুলিতে নিহত হওয়া ফিলিস্তিনি কর্মী আওদাহ হাতালিনের মরদেহ ইসরায়েলি পুলিশ এখনো তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়ায় এই অনশন।
অস্কারজয়ী প্রামাণ্যচিত্র ’নে আদার ল্যান্ড’-এর সহ-পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম বলেন: “আওদাহ হাতালিনকে একজন বসতকারী হত্যা করার পরও পুলিশ এখনো তার মরদেহ তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে না।”
আব্রাহাম শেয়ার করা এক ভিডিওতে আওদাহ হাতালিনের শাশুড়ি ফাতমে হাতালিন বলেন, “নারীরা বৃহস্পতিবার থেকে অনশনে আছেন এবং তারা অনশন চালিয়ে যাবেন যতক্ষণ না মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে যথাযথভাবে দাফন করা যায়।”
এর আগে ইসরায়েলের একটি আদালত পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনি কর্মীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ইসরায়েলি বসতকারীকে গৃহবন্দিতে মুক্তি দিয়েছে।
অভিযুক্ত বসতকারীর নাম ইয়িনোন লেভি। মঙ্গলবার জেরুজালেমের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট তাকে পুলিশ হেফাজতে না রেখে গৃহবন্দিতে পাঠানোর আদেশ দেয়।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজে জানিয়েছে, ইয়িনোন লেভির বিরুদ্ধে ৩১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কর্মী ও ইংরেজির শিক্ষক আওদাহ হাতালিনকে হত্যার অভিযোগে ‘অবহেলায় হত্যাকাণ্ড’ (manslaughter) এবং অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে হেবরনের দক্ষিণে উম্ম আল-খেইর গ্রামে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
আওদাহ হাতালিন ফিলিস্তিনি অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ‘নো আদার ল্যান্ড’ নামের অস্কারজয়ী প্রামাণ্যচিত্র তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন, যা ইসরায়েলি বসতকারী ও সৈন্যদের মাসাফার ইয়াত্তার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার দলিল।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেতসেলেম প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইয়িনোন লেভি গ্রামে সংঘর্ষের সময় আওদাহর ওপর গুলি চালাচ্ছেন।
ভিডিও ফুটেজ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক পূর্বে লেভির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে কেবল গৃহবন্দিতে মুক্তি দেয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর লেভিসহ অন্যান্য বসতকারীদের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে দেন।