এবার কিউবায় আগ্রাসী ট্রাম্প

ট্রাম্প
  © সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর এবার পার্শ্ববর্তী দেশ কিউবাকে হুশিয়ারী দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বললেন, তারা যেন ‘দেরি হওয়ার আগেই একটি চুক্তিতে আসে’, নইলে পরিণতি ভোগ করতে হবে। 

ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের একটি জেলে আটকে রেখেছেন। গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের দখলে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। শুধু হুমকি নয়, এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওদিকে ইরানে হামলা চালাতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হয়েছে। এমন এক উত্তাল মুহূর্তে বিশ্ব যখন অস্থির হয়ে উঠেছে, তখন তিনি আরেক দেশ কিউবাকে সতর্ক করলেন। বললেন, তারা যেন ‘দেরি হওয়ার আগেই একটি চুক্তিতে আসে’, নইলে পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে জানান, কিউবার দিকে ভেনেজুয়েলা থেকে যে তেল ও অর্থের প্রবাহ যেত, তা এখন বন্ধ হয়ে যাবে।

এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলেছে, ৩রা জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে চালানো এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র। ধারণা করা হয়, দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত। এই হুমকির জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ ‘কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই’ জ্বালানি আমদানি করার অধিকার রাখে। কিউবার প্রেসিডেন্ট আরও কড়া ভাষায় বলেন, আমরা কী করব, তা আমাদের কেউ নির্দেশ দিতে পারে না। 

ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার যে কৌশল নিয়েছে, তা কিউবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র একটি পঞ্চম তেল ট্যাংকার জব্দ করে, যেটিতে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল বহন করা হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেছে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থ পেয়ে টিকে ছিল। বিনিময়ে তারা ভেনেজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসককে ‘নিরাপত্তা সেবা’ দিয়েছে। কিন্তু এখন আর নয়! তিনি আরও লিখেছেন, কিউবায় আর কোনো তেল বা টাকা যাবে না- শূন্য! আমি জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, দেরি হওয়ার আগেই তারা যেন একটি চুক্তিতে আসে।

তবে ট্রাম্প ঠিক কী ধরনের চুক্তির কথা বলছেন বা কিউবা রাজি না হলে কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও জবরদস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞার কাছে নতি স্বীকার না করেই যে কোনো আগ্রহী রপ্তানিকারক দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির পূর্ণ অধিকার কিউবার আছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিউবা অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল বা সামরিক চাপ প্রয়োগ করে না।


মন্তব্য