ইরানে টানা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান
  © সংগৃহীত

ইরানের বিভিন্ন বন্দরে নৌ-অবরোধ পুনরায় জোরদারের পর দেশটিতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুধবারের এ হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালানোর ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা অভিযানে বৃহত্তর তুনব দ্বীপের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ স্থাপনায় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরান যে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেছে, তা ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় থাকা বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় টানা সাত ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়েছে।

এদিকে এর জবাবে বুধবার ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানসহ ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় এক ডজন ক্রু সদস্য নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত পরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বুধবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে সংঘাত নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনার প্রচেষ্টা বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি


মন্তব্য