হরমুজের বিকল্প ইরাকের হাতে
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ PM , আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ PM
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পথে তেল রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে ইরাক। এ লক্ষ্যে দেশটি সিরিয়ার মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানো একটি পুরোনো তেল পাইপলাইন পুনরুদ্ধারসহ পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একাধিক চুক্তি করেছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইউএস চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এমন এক সময়ে চুক্তিগুলো হয়েছে, যখন হরমুজ প্রণালিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার কারণে ওই জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিচ্ছে বাগদাদ।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা ইরাক-সিরিয়া অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন পুনর্নির্মাণ। উত্তর ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক অঞ্চল থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইন চালু হলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির সুযোগ পাবে ইরাক।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পাইপলাইন পুনর্বাসনের জন্য ইরাক ও সিরিয়ার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানায়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত ও আর্থিক বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, পাইপলাইনটি পুনরায় চালু হলে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। এটি ইরাকের তেলকে ভূমধ্যসাগরীয় রপ্তানি বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে কাজ করবে।
তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, ইরাকের নতুন তেল পাইপলাইন-সংক্রান্ত চুক্তিগুলো বিকল্প জ্বালানি যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করবে, যা ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
শেভরনের কর্পোরেট বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেক স্পিয়ারিং জানান, সিরিয়া পাইপলাইন প্রকল্প ছাড়াও ইরাকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি আরও দুটি পৃথক চুক্তি করেছে।
এদিকে ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্য ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংকের সঙ্গেও একটি চুক্তি করেছে বাগদাদ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ইরাকের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিগুলোর মোট সম্ভাব্য মূল্য ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
সম্মেলনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, "আমরা উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করছি। যাদের বিনিয়োগ বা প্রকল্প রয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। আমরা কারও জন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চাই না।"
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স