হামলা চলছে তো চলছেই

ইরান
  © সংগৃহীত

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানে টানা সপ্তম রাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সেন্টকমের বার্তায় বলা হয়, ‘ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকম। ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করার লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে গেলে তেহরান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রিত জলমাইন স্থাপিত এলাকায় চলাচলের সময় দুটি বিদেশি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে। তবে সেন্টকম আইআরজিসির এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের মার্কিন অভিযানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশে তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার কাছে প্রদেশটির রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, ওই দিন হরমুজগানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

শুক্রবার রাতের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান শুধু পাল্টা জবাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করেই নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, এই হামলা ওই সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

এর দুই দিন পর ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে। সম্প্রতি তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যা ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির হামলার পর ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সময়ের অপচয়।

ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পর ১১ জুলাই রাত থেকে ইরানে ধারাবাহিকভাবে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সেন্টকম। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে বিবেচিত এই জলপথে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি


মন্তব্য