ট্রাম্পের মাথার দাম ঘোষণা

ট্রাম্প
  © সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরাকভিত্তিক ইসলামিক রেসিস্ট্যান্স গ্রুপ। সংগঠনটি জানিয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ কোটি টাকা) দেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের ইসলামিক রেসিস্ট্যান্স গ্রুপ এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, পুরস্কারের অর্থ তাদের সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো পক্ষের নির্দেশে ট্রাম্পকে হত্যা করা হলেও ঘোষিত অর্থ প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিজ্ঞানী ও শিশুদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, কথিত অপরাধীদের জনগণের ক্ষোভ থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে তারা নিজেদের যোদ্ধাদের জন্য প্রতিশোধকে ‘অঙ্গীকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইরাকি এই গোষ্ঠীর এমন ঘোষণার পেছনে সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ২০২০ সালে ইরানের সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকি মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিস হত্যাকাণ্ডে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের ওই বক্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি ইরাকের ইসলামিক রেসিস্ট্যান্স। এরপরই সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার মাথার জন্য অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসলামাবাদ চুক্তির পরও ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানিয়েছে, ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান পূর্ণমাত্রার সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ ধরনের হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে ইরান শুধু পাল্টা হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং তখন মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামরিক অভিযান, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তার কারণে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: গালফ নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া


মন্তব্য