ইমামদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্টের
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ PM , আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ PM
বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক ইব্রাহিম তাওরে দেশটির ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও ইমামদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘উগ্রবাদী ইসলামের’ বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং যারা ধর্মের নামে উগ্রবাদ ছড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে দেশটিতে কয়েকজন প্রভাবশালী ইমামকে আটক করা হয় এবং ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি বিতর্কিত আইনও পাস করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর মুসলিম সমাজের সঙ্গে সামরিক সরকারের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।
ইব্রাহিম তাওরে বলেন, “যদি এটিই আপনাদের ইসলাম হয়ে থাকে, তাহলে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রবাদীদের অবশ্যই নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। আর যদি তারা পরিবর্তিত না হয়, তাহলে জেনে রাখুন যুদ্ধ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।”
তিনি নতুন ধর্মীয় আইনেরও পক্ষে অবস্থান নিয়ে দাবি করেন, এর মাধ্যমে বুরকিনা ফাসোর ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল চরিত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুতবার মাধ্যমে কেউ উগ্রবাদ বা সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাকে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে যেসব ধর্মীয় নেতা ইসলামের শান্তি, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বার্তা প্রচার করবেন, তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাওরে। তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তিগুলো ধর্মকে ব্যবহার করে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সামরিক সরকারের সঙ্গে মুসলিম কমিউনিটির সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত মে মাসে সুন্নি আলেম মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোকে নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে। তিনি সরকারের প্রস্তাবিত ধর্মীয় আইনের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন।
তার আটকের পর থেকেই মুসল্লিরা মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজধানী ওয়াগাডুগুর বৃহত্তম সুন্নি মসজিদ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় সরকার। আটক হওয়ার পর থেকে ইশহাক কিন্দোর অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইশহাক কিন্দোর প্রায় ১০০ সমর্থককে সেনাবাহিনী আটক করেছে। তাদের সামরিক বন্দিশিবিরে নিয়ে তথাকথিত ‘নাগরিক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি একই ধরনের অভিযোগে মাহমুদ বারো নামে আরেকজন ইমামকেও আটক করা হয়েছিল।
গত ২০ জুন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে নতুন ধর্মীয় আইন অনুমোদন করে। আইনে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো, ধর্মের অপব্যবহার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সরকারের দাবি, আইনটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা এবং উগ্রবাদ দমনের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সূত্র: দ্য নিউ আরব, এএফপি