ভারত যেভাবে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যায় সহায়তা করেছে
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ PM , আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ PM
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনের বরাতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপনস অ্যান্ড অ্যামিউনিশন টু ইসরায়েল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এসব সামরিক চালান পাঠানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব চালানের মধ্যে মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ১৫৫ মিলিমিটারের কামানের গোলা, স্কাইস্ট্রাইকার ড্রোনের বিস্ফোরক উপাদান এবং সাঁজোয়া যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রয়েছে।
অ্যামনেস্টির হিসাব অনুযায়ী, এসব চালানে পাঁচ লাখের বেশি বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদান, প্রায় চার লাখ ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ২৯৮টি সামরিক যানসংক্রান্ত সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কাস্টমস শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বা ‘এইচএস কোড’ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্বৈত ব্যবহারের (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য ও বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ভারতের সামরিক সরবরাহের প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছে অ্যামনেস্টি।
প্রতিবেদনের বিষয়ে মতামত জানতে ভারতের ৯টি কোম্পানি ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড অভিযোগ করেছেন, গাজায় মানবিক সংকট চলার মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তুলছে। তার দাবি, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সতর্কতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তবে ভারত সরকার বরাবরই বলে আসছে, তাদের অস্ত্র রপ্তানি নীতি জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও জানিয়েছেন, দেশের প্রতিরক্ষা রপ্তানি নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ভারত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অন্যতম বড় ক্রেতা, পাশাপাশি নিজস্ব প্রতিরক্ষা পণ্যও বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে।