মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট চায় না চার দেশ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
  © সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট, একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত সংখ্যক এজেন্সিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে যৌথভাবে বিৃবতি দিয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং অ্যাসোসিয়েশনগুলো। 

বৃহস্পতিবার দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নয়; সকল বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন হতে হবে মর্মে অভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে চার দেশ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতারা হলেন নেপাল অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেন এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির (এনএএফইএ) পক্ষে সভাপতি দিক বাহাদুর খত্রি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) পক্ষে সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রিয়াজ উল ইসলাম, মিয়ানমার ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশনের (এমওইএএ) চেয়ারম্যান মিয়ো থান্ট এবং পাকিস্তান ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্রমোটারস অ্যাসোসিয়েশনের (পিওইপিএ) চেয়ারম্যান সাইয়েদ রহমত আলী শাহ

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। বরং সংশ্লিষ্ট সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান ও বৈষম্যহীন সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এতে বলা হয়েছে, মালয়শিয়ার শ্রমবাজার হতে হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈষম্যহীন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া ব্যবস্থা তৈরি হলে তা শ্রমবাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ব্যাহত করার পাশাপাশি কর্মী পাঠানো দেশগুলোর বৈধ রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা, সমান সুযোগ এবং নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে চার দেশের সংগঠনগুলো। তাদের মতে, একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মালয়েশিয়া ও কর্মী পাঠানো দেশ—উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।

যৌথ ঘোষণায় আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বৈধ সব রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত এবং কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

চার দেশের এই যৌথ অবস্থান মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত শ্রমবাজার প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও জোরালো করেছে।

গেল ২১ অগাস্ট বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস।

যদিও দেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার একাংশের নেতারা।

বৃহস্পতিবার দেওয়া বিবৃতিতে চার দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিগুলোর সংগঠন বলেছে, তারা ডিজিটালাইজেশন, স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং দায়িত্বশীল নিয়োগ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সমর্থন করেন।

তবে কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা নিয়োগ ব্যবস্থা যেন অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেশন, একচেটিয়া বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টির মাধ্যম হয়ে উঠতে না পারে।

কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোতে হাজার হাজার এজেন্সি যথাযথভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আইনগতভাবে পরিচালিত এ নিয়োগ সংস্থাগুলো বৈধ নিয়োগের ক্ষেত্রে সমান, স্বচ্ছ এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার প্রাপ্য।

তাদের ভাষ্য, “এমন একটি ব্যবস্থা, যা সীমিত সংখ্যক সংস্থাকে অগ্রাধিকারমূলক বা একচেটিয়া প্রবেশিকার দেয়, তা ন্যায্য প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা এবং নৈতিক নিয়োগের নীতিগুলিকে দুর্বল করতে পারে।

“নিয়োগকর্তা ও অভিবাসী শ্রমিক উভয়ের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধি এবং পছন্দগুলো সীমাবদ্ধ করতে পারে।

“তাই আমরা মালয়েশিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের এফডব্লিউসিএমএস নিয়োগ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য শ্রদ্ধার সাথে আহ্বান জানাচ্ছি।”

চার দেশের সংগঠনগুলো কোনো নিয়োগে যেন একচেটিয়া বা সিন্ডিকেশন তৈরি করা না হয় সে দাবি জানান। একইসঙ্গে সমস্ত যোগ্য এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি যেন ন্যায্য এবং স্বচ্ছভাবে আচরণ করে। একইসঙ্গে নিয়োগের সুযোগগুলো একটি উন্মুক্ত এবং প্রতিযোগিতামূলক সিস্টেমের মাধ্যমে বিতরণ, অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ, অধিকার এবং কল্যাণ কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার দেওয়াসহ কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলো থেকে স্বীকৃত নিয়োগকারী সংস্থা সমিতিগুলোর উদ্বেগ আমলে নিয়ে যেন সমস্যার সমাধান করা হয়, সে দাবিও জানানো হয়। 

বিবৃতিতে চার দেশের এজেন্সিগুলোর সমিতির নেতারা বলছেন, এটা মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, ডিজিটাল নিয়োগের বিরুদ্ধেও নয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সমান সুযোগ নিশ্চিত এবং একচেটিয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে মুক্তির জন্য এটি একটি সম্মিলিত আহ্বান।

মালয়েশিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করায় আবারও ‘সিন্ডিকেট’ হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে আসছিলেন রিক্রুটিং এজেন্টদের একাংশ। তারা সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।


মন্তব্য