এ কেমন রাজনীতির শিকার তারা?
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ PM , আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ PM
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি শত শত চাকরিপ্রার্থী। তাদের অভিযোগ, পুলিশি ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্যতা উপেক্ষা করে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে বঞ্চিতদের নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা।
এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনও সরব হয়েছে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, শিক্ষিত বেকারদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগেও ‘প্রহসনের’ নজির তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণের নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শুক্রবার সংগঠনটি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে বহু প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে ‘ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি’ বন্ধ এবং বঞ্চিতদের দ্রুত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে।
১৫ জেলায় ৩৫১ জনের নাম নেই
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসগুলো থেকে নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। এতে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ১৫ জেলার ৩৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী ওই তালিকায় নিজেদের নাম পাননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভেরিফিকেশনের কারণে চাঁদপুরে ২৭, মুন্সীগঞ্জে ৩, শরীয়তপুরে ৬, সাতক্ষীরায় ২, ঝালকাঠিতে ১২, লক্ষ্মীপুরে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭, পাবনায় ৩৫, রাজবাড়ীতে ১৫, ফরিদপুরে ১২, বগুড়ায় ৪৮, সুনামগঞ্জে ১২০, কুষ্টিয়ায় ১৬ এবং মানিকগঞ্জে ২২ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সারাদেশে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ
নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। চাকরিপ্রার্থীদের বন্ধু ও স্বজনরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন।
সজল কুমার নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, তাঁর পরিচিত রাহুলকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে পড়াশোনা করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, কোন তদন্তের ভিত্তিতে একজন পরিশ্রমী প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হলো।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এ কেমন রাজনীতির শিকার হচ্ছে মানুষ? আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের রাজনীতি বিএনপি ৭ মাসেই শিখেছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তারা কোন বাংলাদেশে বাস করছে, এমন হতাশাও ব্যক্ত করছেন।
অধিদপ্তরের বক্তব্য
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অধিদপ্তরের প্রশাসনিক বিভাগের উপপরিচালক জয়নাল আবেদীনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
তবে অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভিন্ন কারণে কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র নাও পেতে পারেন। এর মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদন, জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসামঞ্জস্যতা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলায় শূন্যপদ না থাকাসহ নানা বিষয় থাকতে পারে।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা এ পরীক্ষার আওতার বাইরে ছিল। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল।