আলোচিত সেই হত্যার রায়, কে কী শাস্তি পেলো

নুসরাত
  © ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা ধরে রায় পড়া হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা পুরো রায় পাঠ করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন- অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও মাদ্রাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।

খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও কামরুন নাহার মনি। মূল মামলার ১৬ আসামির তালিকার সঙ্গে প্রদত্ত খালাসের সংখ্যা মিলিয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে একজন আসামির নামের বিষয়ে প্রতিবেদনে অসঙ্গতি রয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি ও নুসরাতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

গত ২০ আগস্ট মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এ মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল।

যেভাবে ঘটেছিল নুসরাত হত্যাকাণ্ড

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

নিম্ন আদালতের রায়

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় দেন। রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

ওই রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলার নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এটি ১৪০/২০১৯ ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। একই সঙ্গে দণ্ডিত আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্টের রায়ে মামলার ১৬ আসামির দণ্ডের বিষয়ে পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা যাবজ্জীবনে পরিবর্তন এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য