প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা কাটলো
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ PM , আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ PM
এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে তৈরি আইনি জটিলতা আপাতত দূর হয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক।
এর ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ বহাল থাকছে। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএর করা আপিলের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।
সরকারের চলতি বছরের ২৫ মার্চের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার মেয়াদ ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ আপিল করলে মঙ্গলবার তার শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি।
ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ দিয়ে সরকারের করা নতুন বিধি কার্যকর থাকছে। এর আগে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে প্রধান শিক্ষক পদে ১০ হাজার ২৭৮টি শূন্য পদ ছিল।
এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ ও সুপার পদে প্রায় ১৫০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারসহ বিভিন্ন পদে ৩ হাজার ১৩১টি পদ শূন্য ছিল। সব মিলিয়ে ওই সময়ে এসব পদে শূন্যপদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫৫৯টি।
চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া বিলম্ব কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আদালত রিট আবেদনকারী ৪৬ জনের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ওই পদগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট শূন্য পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে সরকার। একই সঙ্গে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।