শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কী কথা হলো

প্রধানমন্ত্রী
  © সংগৃহীত

যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য হয়েছে, সেটিও অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত সব বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যুগপৎ জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আইনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সুযোগ নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে এখন আলোচনা প্রয়োজন নেই। তবে ভবিষ্যতে সব সিদ্ধান্তই শরিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলামী ঐক্যজোটসহ ৪১টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আন্দোলনে শহীদ, আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছেন। এ সময় অনেকেই কারাবরণ করেছেন, গুম, হত্যা ও মামলার শিকার হয়েছেন। সেই সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের জন্যই প্রধানমন্ত্রী তাদের আমন্ত্রণ জানান।

বিএনপি মহাসচিব জানান, বৈঠকের পরিবেশ ছিল আন্তরিক ও আবেগঘন। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের মতামত শুনেছেন। উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক কাজের কারণে এতদিন সব শরিক দলের সঙ্গে বসা সম্ভব হয়নি। তবে এই সময়ে সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জনগণের কাছে সরকারকে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে নিয়মিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক হবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচি যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মির্জা ফখরুলের ভাষায়, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের সব শরিককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। এতে ভবিষ্যতের কর্মসূচি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।


মন্তব্য