চু্প্পুর বিদায়
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ PM , আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ PM
শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বেশ কয়েকদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেন। তবে স্পিকার বিদেশে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ব্যাংকক সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফেরার পর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। দায়িত্ব পালনকালে তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি ভিন্ন সময়ে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গেলে বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলোতে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন পরিবর্তনের সূচনা হলো। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ পেল।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাবনা জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর পাবনার বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।