বিলুপ্ত হচ্ছে র্যাব
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ PM , আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ PM
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে সরকার।
খসড়া আইনে নতুন ইউনিটের কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা, প্রশাসন ও জবাবদিহির বিষয়গুলো নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জনমত গ্রহণের জন্য খসড়াটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। এর সদর দপ্তর ঢাকায় স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের অন্যান্য স্থানেও ইউনিট স্থাপন করা যাবে। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়ায় এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ গুরুতর অপরাধ দমন ও তদন্তের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে বিশেষ ধরনের মামলা পরিচালনা ও তদন্তের দায়িত্বও পালন করতে পারবে ইউনিটটি।
শুধু পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এসআরবিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ হবে ন্যূনতম দুই বছর।
খসড়া আইনে নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যদের অস্ত্র বহন, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিটের নিজস্ব হেফাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনেরও বিধান রয়েছে। তদন্ত ও বিচারসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আইনে পৃথক বিধান না থাকলে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান প্রযোজ্য হবে।
জবাবদিহিতে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি
নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন ইউনিটের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার ও আইন-বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।
নাগরিকদের অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে কমিটি। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে। এছাড়া ইউনিটের কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, অনিয়ম, পদায়ন, পদোন্নতি কিংবা বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে অভিযোগ পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।
এসআরবির কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়ার বিধানও খসড়ায় রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করার বিধান রয়েছে।
সংসদে যাওয়ার আগে আরও পর্যালোচনা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।
আইনটি কার্যকর হলে র্যাবের পরিবর্তে নতুন কাঠামোর এসআরবি দেশের গুরুতর অপরাধ দমন, তদন্ত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে র্যাব গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাহিনীটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যেই র্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।