রাস্তায় ‘গোলাপি বাস’
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৮ PM , আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৮ PM
নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকায় চালু হয়েছে বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু হওয়া ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ১০টি রুটে চলাচল করবে। এসব বাসে নারী যাত্রীদের জন্য ই-টিকিটিং, সিসি ক্যামেরা ও জিপিএস সুবিধা রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিআরটিসি জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া শহরে মোট ১৩টি রুটে ১৪টি বাস দিয়ে মহিলা বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি বাস চলাচল করবে। ঢাকার বাসগুলো ১৬০টি স্টপেজে যাত্রীসেবা দেবে। চট্টগ্রামে ১২টি এবং বগুড়ায় ১৬টি স্টপেজ নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসগুলো নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। নারী যাত্রীদের পাশাপাশি বাসে কর্মরত নারী চালক ও সহকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বাসে সিসি ক্যামেরা ও জিপিএস যুক্ত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, মহিলা বাস সার্ভিসে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে নারী যাত্রীরা বাসে ওঠার আগেই সহজে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে কাউন্টারে অপেক্ষার সময় কমার পাশাপাশি গণপরিবহনে প্রযুক্তিনির্ভর সেবাও নিশ্চিত হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা শুধু বাসের ভেতরেই নয়, বাসের জন্য অপেক্ষার সময় এবং গন্তব্যে নামার পরও নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই এই সেবা শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে এর মান উন্নয়ন করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, ঢাকার গণপরিবহনকে পরিবেশবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি) কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কয়েকটি জেলায় নারীবান্ধব বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নারী যাত্রীদের জন্য চালু হওয়া এই সেবাকে টেকসই ও আরও বিস্তৃত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।