আল জাজিরার বিশ্লেষণ
হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা-দিল্লি টানাপোড়েন
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ PM , আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ PM
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে সামনে রেখে ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তার সরকারের পতন ও গণঅভ্যুত্থানের সমালোচনা করেন। ভারতের ভূখণ্ডে বসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ায় ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, শেখ হাসিনাকে যেন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া কিংবা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দেওয়া হয়। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চলমান উদ্যোগে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের জটিলতা কাটানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতের ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বা প্রত্যর্পণ দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় হলেও, ভারতের ভূখণ্ড থেকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারের বিষয়টি নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভরশীল।
নয়াদিল্লি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো বার্তা দিলে দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ আবারও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।
তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক নির্ভরতা সহজে কমার নয়। দুই দেশের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাণিজ্য হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ালেও দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সাময়িক টানাপোড়েন থাকলেও জাতীয় স্বার্থে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও বৈঠক শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।