নেপালে হতাহতের ঘটনা সংসদে
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ PM , আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ PM
ছাত্র-জনতার বিজয়ের স্মৃতিবাহী আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। অধিবেশনের শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর বিরতিতে ২০২৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে একটি গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জাতীয় সংসদ ও নিজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান স্পিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বেগবান হবে।
স্পিকার বলেন, সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিফলন। তাই দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অধিবেশনের কার্যপ্রণালী বিধির ১২(১) অনুযায়ী স্পিকার পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম ক্রমানুসারে ঘোষণা করেন। তাঁরা হলেন-ঢাকা-৩ আসনের গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের জামাল নিজাম, পঞ্চগড়-১ আসনের মুহাম্মদ নওশাদ জমির, মহিলা আসন-১০-এর নিলুফার চৌধুরী মনি এবং রাজশাহী-১ আসনের মুজিবুর রহমান। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নির্ধারিত ক্রমানুসারে তাঁরা অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
পরে স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। গত ১২ জুলাই প্রয়াত সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও মন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সতীশ চন্দ্র রায়, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহান চৌধুরী, সাবেক চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন মিয়াসহ ১২ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক জানানো হয়।
একই সঙ্গে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী, চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং শিক্ষাবিদ ড. মকবুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
শোক প্রস্তাবে বাদ পড়া কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি যশোরের ঝিকরগাছার সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাদেক মোহাম্মদ আবু সাঈদ এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল আজিজের নাম যুক্ত করার অনুরোধ করেন।
পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণিও নাটোরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমানের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে সংসদের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা জানানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
চিফ হুইপ জানান, নেপালের এই দুর্যোগে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা এবং মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সংসদে উত্থাপিত সব শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নেপালের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানানোসহ প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।