নবম পে স্কেলে ৪ ধাপে বাড়িভাড়া
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ PM , আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ PM
নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতার হারেও পরিবর্তন আসছে। এ জন্য গ্রেড ও এলাকাভেদে বাড়িভাড়া ভাতার চারটি নতুন ধাপ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কিছুটা সংশোধন এনেছে সচিব কমিটি। এরপর বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হারসহ সমন্বিত চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করা হয়েছে।
সচিব কমিটির সূত্র জানিয়েছে, মূল বেতন বাড়ার সঙ্গে আগের হারেই বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানো হলে সরকারি আবাসনের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই অঞ্চল ও গ্রেডভেদে নতুন হার প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে তা পর্যালোচনা করে কিছুটা সংশোধন করেছে সচিব কমিটি।
১৬তম থেকে ২০তম গ্রেড
নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।
অন্যান্য বড় শহরে এ হার হবে ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, কক্সবাজার ও সাভার।
দেশের অন্যান্য এলাকায় এই গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।
১০ম থেকে ১৫তম গ্রেড
১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতার হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ।
অন্যান্য বড় শহরে তারা পাবেন ৪০ শতাংশ এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ৩৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা।
৫ম থেকে ৯ম গ্রেড
৫ম থেকে ৯ম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।
অন্যান্য বড় শহরে এ হার হবে ৩৫ শতাংশ। দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হবে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ হারে।
১ম থেকে ৪র্থ গ্রেড ও তদূর্ধ্ব
১ম থেকে ৪র্থ গ্রেড এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতার হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ।
অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার এলাকায় এ হার হবে ৩০ শতাংশ। দেশের বাকি এলাকায় তারা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে।
নতুন পে স্কেলে ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়ানোর হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়া হবে না। তিন ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে।
অন্যদিকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।