পে স্কেলে বেতন বেড়েছে, তবুও...
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ PM , আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ PM
বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেলের সরকারি আদেশ প্রকাশের পর বেতন-ভাতার বিভিন্ন হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে। বিশেষ করে গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার হারে পার্থক্য থাকায় ১৬তম ও ১৫তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, রাজধানী ও বড় শহরের বাইরে কর্মরত ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৫তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ শতাংশ।
এর ফলে ১৬তম গ্রেড থেকে ১৫তম গ্রেডে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতার অঙ্ক কমে যেতে পারে। নতুন পে স্কেলে ১৬তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা। এর ৪৫ শতাংশ হিসেবে বাড়িভাড়া দাঁড়ায় ৯ হাজার ৮৫৫ টাকা।
অন্যদিকে ১৫তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার ৮০০ টাকা। ৩৫ শতাংশ হারে এ গ্রেডে বাড়িভাড়া হবে ৭ হাজার ৯৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক মূল বেতনে ৯০০ টাকা বৃদ্ধি হলেও বাড়িভাড়া ভাতার অঙ্ক কমছে ১ হাজার ৮৭৫ টাকা।
তবে শুধু মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব দিয়ে দুই গ্রেডের মোট আর্থিক সুবিধার চূড়ান্ত তুলনা করা যাবে না। কারণ কর্মচারীদের মোট প্রাপ্যের সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা, উৎসব, মোবাইলসহ বিভিন্ন প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত হতে পারে। ফলে সামগ্রিক আর্থিক পার্থক্য নির্ধারণে পুরো বেতন-ভাতা কাঠামো বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নতুন পে স্কেলে বাংলা নববর্ষ ভাতার হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোতে তা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের ২০ শতাংশ হারেই বৈশাখী ভাতা দেওয়া হবে। নতুন ১৫ শতাংশ হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
সন্তানদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতার ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে মোট ১ হাজার টাকা এ ভাতা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় কমানো হয়েছে। আগে পদোন্নতি ছাড়া একটানা ১০ বছর চাকরির পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন কাঠামোতে তা কমিয়ে আট বছর করা হয়েছে। তবে উচ্চতর গ্রেডকে নিয়মিত পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
নতুন পে স্কেলে মোট ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা, ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
তবে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কাঠামোটি কার্যকর ধরা হলেও ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন মূল বেতনের বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ পাবেন। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ হার হবে ৪০ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ সুবিধা কার্যকর হবে।
এদিকে নতুন পে স্কেলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করণীয় নির্ধারণে বৈঠক ডেকেছেন সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সোমবার সারা দেশের অন্তত ১৩টি সংগঠনের নেতাদের এ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পরিষদের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন পে স্কেল পাওয়া গেলেও এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর ভাষ্য, আগের বেতন কাঠামোয় থাকা বৈষম্যের কিছু বিষয় নতুন কাঠামোতেও রয়ে গেছে, যা কর্মচারীদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন।