নৌকাডুবি: নিহতের শঙ্কায় ৫৩০ রোহিঙ্গা
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ PM , আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ PM
মিয়ানমারের উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৫৩০ রোহিঙ্গার সলিল সমাধি হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যৌথ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম এবং শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উপকূল থেকে দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। একটিতে প্রায় ২৫০ জন এবং অন্যটিতে ২৬০ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত কয়েকজন রোহিঙ্গাও ছিলেন।
প্রায় দুই সপ্তাহের যাত্রা শেষে গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাওয়াদি উপকূলের কাছে দুটি নৌকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে অপর নৌকাটিও সাগরে তলিয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী জীবিত উদ্ধার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
নৌকা দুটি কোন গন্তব্যে যাচ্ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশেই যাত্রা করেছিল তারা। কারণ এই সমুদ্রপথ সাধারণত ওই দেশগুলোর দিকেই যায়।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত নৌযান চলাচলের উপযোগী সময়। বছরের বাকি সময় সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন প্রতিকূল সময়েই যাত্রা করায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। নাগরিকত্ব ও স্থায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকায় তাদের অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা যাত্রা করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ জন সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স