বাংলাদেশ থেকে এশিয়ার নোবেল ম্যাগসাইসাই পেলেন যিনি

পুরস্কার
  © সংগৃহীত

‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। রুনা খানের সঙ্গে এবার আরও দুজন এ পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চি।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মানুষের সেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তার মতো মূল্যবোধ এবারের বিজয়ীদের কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান গভীর আনন্দ ও বিনয়ের সঙ্গে এ সম্মাননা গ্রহণের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘কোনো নেতা একা পথ চলেন না।’ এ স্বীকৃতি তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ফ্রেন্ডশিপের কর্মীদের উৎসর্গ করেন। একই সঙ্গে গত ২৫ বছর ধরে যারা তাদের কাজে আস্থা রেখেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার মতে, এই স্বীকৃতি একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্বও।

রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে।

ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রমের শুরু বাংলাদেশের দুর্গম নদীবেষ্টিত অঞ্চল থেকে। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের বিভিন্ন মডেল তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন রুনা খান।

রুনা খান বাংলাদেশ থেকে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ এ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এর আগে ২০২১ সালে বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী, ২০১২ সালে পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ২০১০ সালে এ এইচ এম নোমান, ২০০৫ সালে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ২০০৪ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এ সম্মাননা পান।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ম্যাগসাইসাই বিজয়ীদের তালিকায় আরও রয়েছেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। একই বছর তার নামে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর, ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।

প্রতিবছর ৩১ আগস্ট ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

২০০৮ সাল পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণিতে এ পুরস্কার দেওয়া হতো। শ্রেণিগুলো ছিল—সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব।

২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পুরস্কারটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।


মন্তব্য