এলডিপিতে ভাঙ্গন

একঘরে অলি, ফিরে গেলেন রেদোয়ান

এলডিপি
  © সংগৃহীত

বিএনপির সঙ্গে আসন বন্টনে সমঝোতা না হওয়ায় একলা চলো নীতি বেচে নিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। আর অলির এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তার মহাসচিব ফিরে গেলেন তারই সাবেক দল বিএনপিতে। সভাপতি ও মহাসচিবের এমন দ্বৈরতে আরেকবার ভাঙ্গনের মুখে পড়লো লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি)।
  
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এককভাবে নির্বাচন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগে তার দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদও এলডিপি ছেড়ে ফিরে গেছেন পুরানো ঠিকানা বিএনপিতে। সাবেক দল বিএনপিতে যোগ দিয়ে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচন লড়াইয়ের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

এ অবস্থায় ত্রয়ােদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস আগেই হঠাৎ করে একঘরে হয়ে পড়েছেনএলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারের গুলফেশা টাওয়ারে এলডিপির পার্টি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, বিএনপির কাছে আমরা ১৪ জনের একটা শর্ট লিস্ট দিয়েছিলাম। আমরা বলিনি যে আমাদের ১৪ জনকেই নমিনেশন দিতে হবে। তারা ১২ জন দিতে পারতো, ১০ জন দিতে পারতো। অন্তত, একটা সম্মানজনক ৮-৯টি আসন দিলেও আমাদের দলটা টিকে যেত। কিন্তু, তারা আমাকেসহ মাত্র দুইজনকে নমিনেশন দিতে চাইলো। এর মধ্যে আমার আসনটি আমি ধরতেছি না, কেননা এই আসনে মহান আল্লাহর রহমতে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সবার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয় হয়ে সংসদে গিয়েছিলাম। সেই অর্থে তারা মাত্র একটি আসন দিতে চাইল। এর অর্থ হলো- তারা হয়তো আমাদের দলটিকে রাখতে চায় না। আমার ধারণা, আমরা যেহেতু একবার তাদের দল ছেড়ে দিয়েছিলাম সেহেতু তারা একটা শাস্তি দিতে চায়।

তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই আমরা বিএনপিকে শর্ট লিস্ট দেওয়ার পর আজ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে একবারও বসে নাই। দুই একজনকে আলাদাভাবে ডাকলেও দলের সঙ্গে বসেনি। অথচ, আমাদের শর্ট লিস্ট আমি তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল এবং সালাউদ্দিন আহমদের কাছেও পাঠিয়েছি। সবশেষ আমাদের নেতারা গিয়ে দুই ঘণ্টা বিএনপি অফিসে বসা ছিল। বিএনপির মহাসচিব আমাদের দলের সঙ্গে একটা বৈঠকও করেননি। আনঅফিশিয়ালি নজরুল ইসলাম এবং রিদোয়ান আহমদ বা কারো কারো সঙ্গে এককভাবে কথা বলেছেন। মহাসচিবের নেতৃত্বে আমাদের দলের সাত জনের কমিটির সঙ্গে বিএনপি একবারও বসে নাই।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনগুলোতে নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে আমাদের দল চলেছে, চান্দাবাজি করে নাই। আমাদের দলের সব টাকা আমাদের নেতারাই যোগান দিয়েছে। আমাদের এরকম কোনো ফান্ডও নাই, যেখান থেকে আমরা টাকা খরচ করতে পারি। অনেক কষ্ট করে আমরা আমাদের দলকে টিকিয়ে রেখেছি। অনেক বিপদের মধ্যে দিয়ে আমাদের অতিবাহিত হতে হয়েছে। এখন শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, ছাগল আর গরুর দাম একই। কোনো পার্থক্য নাই। এলডিপিকে দুইটা সিট দেওয়া হয়েছে। দুইটা সিটের মধ্যে আমি বলব, একটা সিটেই দেওয়া হয়েছে।

এলডিপির এই নেতা বলেন, যারা আমার দলের নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। তারা সবাই অনতিবিলম্বে আমাদের যুগ্ম মহাসচিব বেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। আপনাদের যে সমস্ত কাগজপত্র প্রয়োজন নির্বাচন অফিসারের সঙ্গে কথা বলে সে কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত করবেন। পার্টির পক্ষ থেকে যে সিম্বল দিতে হবে, তার জন্য কাগজ প্রস্তুত আছে এবং এটার সঙ্গে একটা চিঠিও দিতে হবে, সেই চিঠিও প্রস্তুত আছে। যোগাযোগ করলে আমরা সে কাগজগুলো প্রত্যেক প্রার্থীকে দিয়ে দেব। এখন আর কোনো বাধা থাকলো না। এলডিপি এককভাবে মাঠে নির্বাচন করবে, ইনশাআল্লাহ।

এদিকে, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচন লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার দুপুরে গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রেদোয়ান আহমেদ এলডিপির মহাসচিব ছিলেন। তিনি কুমিল্লা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। 

পরে সাংবাদিকদের রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম। বিএনপি তার শরিকদের আসন বন্টনে ছাড় দেবে, এর সাথে আমি একমত।’

এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ বিএনপির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন জানিয়ে রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘এলডিপির সিংহভাগ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সারাদেশে এলডিপির নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে একমত পোষন করেছেন। আমি আশা করি অলি আহমেদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় একমত হবেন।’

এ বিষয়ে রেদোয়ান আহমেদ আরও বলেন, ‘অলি আহমেদ নির্বাচনে আসুক আর না আসুক আমি বিএনপির সমঝোতায় একমত হয়ে নির্বাচন করব। আমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপিতে ছিলাম সেজন্য আমি আজকে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিচ্ছি এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’

পদত্যাগপত্র এলডিপির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছেন উল্লেখ করে রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘এলডিপির অধিকাংশ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সারাদেশে দলের নেতা-কর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করবেন।’

পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রেদোয়ান আহমেদকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমি তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং তার এই যোগদান ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসার মতো এবং এতে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে।’


মন্তব্য