সারজিসের হুঁশিয়ারি
- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ PM , আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ PM
দুর্নীতি করলে আওয়ামী লীগের মতো পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিন বলেছেন, আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই কোনো দল বা প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা হবে ন্যায়-অন্যায়, সুশাসন-দুর্নীতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। তিনি বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করলে তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতো, এমনকি তার চেয়েও খারাপ হতে পারে।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, দেশের পরিবর্তন কেবল রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে মানুষের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতিবিদদের পরিবর্তন চাই, প্রশাসনের পরিবর্তন চাই, ব্যবসায়ীদের পরিবর্তন চাই। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন করতে না পারি, তাহলে বাংলাদেশেরও পরিবর্তন হবে না। দল বা প্রতীকের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন, পরিবার বা পূর্বপুরুষ যে দলকে সমর্থন করতেন, আমাকেও সেই দলকেই সমর্থন করতে হবে। কিন্তু কোনো দল যদি ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, দখলদারিত্ব ও মানুষের ওপর জুলুম করে, তাহলে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে তাদের সমর্থন করা দেশের জন্য ক্ষতিকর।’
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ‘খাল খননের নামে এখন নতুন একটি মেগা প্রকল্প শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্প ঘিরে জমি, খালের মাটি ও বালু লুটপাট হচ্ছে। আওয়ামী লীগ যেমন মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছিল, বিএনপি যদি সেই একই পথে হাঁটে, তাহলে তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ হবে। আজকের তরুণ প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস করবে না। জনগণের ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করলে জনগণই তার জবাব দেবে।’
প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করুন। অতীতে যারা ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে কাজ করেছেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তাদের অনেকেই বিপদে পড়েছেন। তাই জনগণের আস্থা অর্জন করাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আওয়ামী লীগও একসময় ক্ষমতায় ছিল, আজ নেই। ভবিষ্যতে যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করলে তাদেরও একই পরিণতি হবে।’
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, ‘মূলধারার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্য সত্য না-ও হতে পারে। প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করতে হবে। অনেক গণমাধ্যম নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজ করে। তাই জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং বিবেক দিয়ে সত্য-মিথ্যা বিচার করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিও সত্য প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। সত্যকে সত্য বলার সাহস হারিয়ে ফেললে কোনো গণঅভ্যুত্থানের অর্জনই টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।’
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ না হলে দেশের সার্বিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে না। সীমান্ত নিরাপদ থাকলে দেশের মানুষও নিরাপদ থাকবে। তাই সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।’
সরকারের জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘জনগণের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। একটি নিম্নমানের রাস্তা বা অবকাঠামোর ভোগান্তি বছরের পর বছর জনগণকেই পোহাতে হয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। প্রশাসনিক অফিসগুলোকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা দলকে স্বৈরাচার হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
তরুণদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘ইতিহাসে বড় বড় পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণরাই। দেশকে এগিয়ে নিতে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক তরুণদের নেতৃত্বে আসতে হবে।’
সভায় তিনি এনসিপির মনোনীত উপজেলা প্রার্থী সাইফুল্লাহর পরিচয় তুলে ধরে তাকে সমর্থনের আহ্বান জানান। তরুণ নেতৃত্ব জনগণের ভোটের আমানত রক্ষা করবে এবং ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করবে।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন জনগণের আস্থা ও ভোটের মর্যাদা রক্ষায় এনসিপির নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাবেন।
জাতীয় যুবশক্তির ময়মনসিংহের আহ্বায়ক ফয়সাল ফারনিমের সঞ্চালনায় পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও এনসিপি মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সাইফুল্লাহ, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলা আহ্বায়ক এটিএম মাহবুব আলম, সদস্যসচিব জসিম উদ্দিন, মহানগর সদস্যসচিব ইকরাম এলাহী খান এবং ধোবাউড়া উপজেলা সমন্বয়কারী আতিকুর রহমান প্রমুখ।