মাঠে নামছে এনসিপি
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ AM , আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ AM
সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারের গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটিকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, কেবল সংবিধান সংশোধন নয়, গণভোটের রায় এবং ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে পুরো সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
এনসিপির একাধিক শীর্ষ বৈঠকের সূত্র জানায়, সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কারে দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দলটির নেতাদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানে আংশিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।
গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। তাদের দাবি ছিল, বিশেষ কমিটির পরিবর্তে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে।
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এ কমিটিতে অংশ নেওয়ার কথা কখনো বলিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি। সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যদি নতুন কমিটি করা হয়, তাহলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ সংবিধানসংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। গণভোটে এসব প্রস্তাবের পক্ষে জনগণ মত দেওয়ার পরও সেগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতাসীন বিএনপি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলো গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ অপরিবর্তিতভাবে বাস্তবায়ন এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “সরকার সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন না করে দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুক। অন্যথায় জুলাই বিপ্লবের অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালানো হলেও নির্বাচনের পর সরকার জনগণের রায়ের বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্যও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার দাবি, নির্বাচনের পর বিএনপি তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।
তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে গণসমাবেশ করেছে। সামনে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে এনসিপিও দলীয়ভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটিতে দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দেওয়া হয়নি। কারণ, তারা সংবিধানের আংশিক সংশোধন নয়, পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে।
দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “সংবিধান সংস্কার না হলে যেকোনো সময় জনগণের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।”