জ্বালানি সংকট কৃত্রিম নাকি চক্রান্ত? প্রশ্ন সাবেক ছাত্র নেতাদের

জ্বালানি সংকট
  © সংগৃহীত

চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে চাপে ফেলার জন্য একটি পরিকল্পিত তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। তারা বলছেন, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ও অসাধু চক্রের কারসাজিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ‘৮০-৯০ দশকের ছাত্র মুভমেন্ট”-এর এক ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা এ অভিযোগ করেন। সভায় দশ বিভাগের সমন্বয়করা অংশগ্রহন করেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অহবায়ক মো. আলী আকবর চুন্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্রের কারণে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি তেল আমদানি এবং গ্যাস খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।

আলী আকবর চুন্নু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সময়মতো জ্বালানি সংগ্রহে বিলম্ব, কারিগরি ত্রুটির কারণ দেখিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা এবং লোডশেডিং বাড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে অসন্তোষ তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু ছয় মাসের মাথায় একটি নির্বাচিত সরকারের পক্ষে কি রাতারাতি এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব? সে প্রশ্নও কিন্তু উঠে।

ভার্চুয়াল মিটিংয়ে আমন্ত্রিত নেতারা

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি যখন স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে, তখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা শিল্প উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কলকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়লে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ ও বাজারদরেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, জ্বালানী খাতে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে এর অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি সরকারের ওপর জনসাধারণের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেজন্য  সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো পরিকল্পিত অনিয়ম বা কারসাজি থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ হাসেম রাজু বলেন, বর্তমান জ্বালানী সংকট নিরসনে সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতীতে করা সকল সন্দেহজনক চুক্তি ও ক্রয়প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে তা শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ভার্চুয়াল সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাবেক ছাত্র নেতা রফিকুল ইসলাম খান (ভিপি মাসুম), হবিগঞ্জ (দক্ষিণ) জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শাহজাহানসহ, সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট মাহবুবুর রহমান, মো. মামুনুর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


মন্তব্য