নাম না নিয়ে জামায়াতকে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী
- ফেনী সংবাদদাতা
- প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ PM , আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ PM
কিছু কিছু রাজনৈতিক দল কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে একটি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছি। স্বৈরাচার গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের টুঁটি চেপে ধরে রেখেছিল। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার তারা কেড়ে নিয়েছিল। মানুষকে তারা কথা বলতে দেয়নি। মানুষের কষ্ট-দুর্দশা তারা দূর করেনি। দুঃখ-দুর্দশার কথাও তারা শুনতে চায়নি সেদিন।
তিনি বলেন, ২৪-এর ৫ আগস্ট এই দেশের মানুষ সেই স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিদায় করেছে। এ বছর ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে এই দেশের মানুষ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে। এই দেশে বিএনপিকে যখন দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে, বিএনপি তার সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সকলের জন্য সমান। দেশে যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা দেখেছি, কীভাবে আইনের শাসনকে বিগত ১৭ বছর ভূলুণ্ঠিত করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে আইনের শাসন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা খেয়াল করছি, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে একটি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। এই যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললাম, কৃষক কার্ডের কথা বললাম, খাল খননের কথা বললাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কথা বললাম, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করার কথা বললাম এই কাজগুলোতে যদি বিঘ্ন ঘটে, ক্ষতি কার হবে? এই দেশের মানুষের, না বিদেশি মানুষের? এই দেশের মানুষেরই হবে।
বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক দল’ ও ‘গুপ্তদল’ শব্দ ব্যবহার করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই রাজনৈতিক দল, যারা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে- ১৯৭১ সালে তাদের কী ভূমিকা ছিল। মনে আছে আপনাদের? আমরা দেখেছি, তারা সেই সময় কীভাবে বিভিন্ন অন্যায় করেছিল, কীভাবে মা-বোনদের হয়রানি করেছিল, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করেছিল। যেভাবে তারা মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করেছিল, ঠিক একইভাবে আমরা দেখছি আবার তাদের সেই নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। আমরা দেখছি, এই গুপ্তবাহিনীর কিছু সদস্য কীভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করছে এবং শুধু নির্যাতন করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে। যে বিষয়টি তদন্তাধীন, সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু মানুষ বলে, শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি। একটি মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছে তারা।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখলাম, সেই গুপ্তদলের নেতারা খুব নসিহত করছে আমাদের- আপনারা এটা করেন, আপনারা ওটা করেন। আজকে এখানে হাজারো লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কীভাবে নারী নির্যাতন করছে, সেটি আগে সামাল দেন, তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।