অভিযোগ করা ‘ট্রেন্ড’ হয়ে গেছে: বিমানমন্ত্রী
- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ PM , আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ PM
বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে যাত্রীদের ভোগান্তি ‘এখন আর হচ্ছে না’ বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, লাগেজ পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ এখন অনেকটা ‘ট্রেন্ড’ হয়ে গেছে। তবে দু-একটি ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের ভেতরে ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এক সাংবাদিক মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা, এমনকি তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, ‘আগের দিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না’।
জবাবে কর্মকর্তা বলেন, ‘উনি যে রিপোর্টটা করেছেন স্যার, এ রকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’ এরপর ওই সাংবাদিক বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং সৌদি ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকেও লাগেজ পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে আপনার সঙ্গে, তারপর সৌদি ফ্লাইটেও কথা বলেছি এবং ওখানে যাত্রীরাই অভিযোগ করছিলেন।’
জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি এজন্য আপনাকে একটা কথা বলেছি- যখন এ ধরনের কোয়ারি আসে, আপনি একটু বিমানের জাস্ট ল্যান্ডিং টাইমটা ভেরিফাই করবেন এবং যে সময় আপনি সাক্ষাৎকারটা নিচ্ছেন, সে টাইমটাও ভেরিফাই করবেন।’ তখন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে যাত্রীরা কি মিথ্যা বলছিলেন?’
জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই বলেনি। আমার মনে হয়, এটা একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে। আমি যাদের জিজ্ঞেস করেছি, পরশুদিন জিজ্ঞেস করেছি- একজন বলছে, আমি ৯ মিনিটে পেয়েছি; একজন বলছে ১৫ মিনিটে পেয়েছি; একজন বলছে, আমি ১০ মিনিটে পেয়েছি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি বললাম যে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা? যেহেতু আমাদের অন্যান্য বিদেশেও কিন্তু তাই। আমরা ছোট এয়ারপোর্ট, নেমেই তারা লাগেজটা পেতে চায়।’
এ সময় সাংবাদিক বলেন, ‘কিন্তু স্যার, আপনি যখন আসছেন, তখন তো তারা সেই কথাটা বলবেই। আপনি আমার সঙ্গে এখন দুই নম্বর টার্মিনালে চলেন, আমি আপনাকে দেখাই সেখানে পরিস্থিতিটা কীরকম।’
জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা, পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য আমরা যথাযথ চেষ্টা করব। আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর, এগুলো নিরসন করার জন্য একটা সময় দিতে হবে। যেহেতু অনেক দিন এই প্রবণতাটা চলে আসছিল।’
বিমানবন্দরের কর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা কাজ করে তারা অলস হয়ে গিয়েছিল। তারা দলীয়ভাবে অনেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে, তারা কাজ করতে পারেনি। আমার মনে হয়, এখন এটা হচ্ছে না। আপনারা যেভাবে বলছেন, এটা হচ্ছে না।’
এরপর সাংবাদিক বলেন, ‘এটি আসলে হচ্ছে।’ জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দু-একটি যদি হয়ে থাকে, আমি জানি না। সেগুলো অ্যাড্রেস করা হবে। টার্মিনালে আমি যাব, দেখব।’