ফিফা নিয়ে ইনফান্তিনের কাণ্ড

ফিফা
  © সংগৃহীত

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার। এর ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল।

ফিফার দাবি, নতুন প্রতিষ্ঠান গঠিত হলেও বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ সব প্রতিযোগিতার ক্রীড়া পরিচালনা, নিয়ম-কানুন, সূচি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সংখ্যালঘু অংশীদার হলেও ফুটবলের নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা ফিফার কাছেই থাকবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ফিফার সদস্য দেশগুলো এককালীন ২ কোটি ডলার এবং চার বছরের চক্রে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। সদস্য দেশগুলো চাইলে এফএফইতে সীমিত পরিসরে অংশীদার হওয়ার সুযোগও পাবে।

তবে এই প্রস্তাব কার্যকর করতে ফিফার ৩৮ সদস্যের কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। সদস্য দেশগুলোর মতামত গ্রহণের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ফুটবলকে বাণিজ্যিক সম্পদে পরিণত করা উচিত নয় এবং বিশ্বকাপের মালিকানা বা স্বত্ব বিক্রির মতো পদক্ষেপ ফুটবলের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে উয়েফা তাদের ৫৫ সদস্য দেশের সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমনও দাবি করা হয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, এফএফই কোনো বাধ্যতামূলক উদ্যোগ নয়; এটি সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ মাত্র। তার ভাষায়, ফুটবলের যেসব খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন, সেখানে নতুন এই বাণিজ্যিক মডেল অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ফিফার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব ফুটবলের আর্থিক কাঠামো ও পরিচালনা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সমর্থন ও বিরোধিতা-দুই পক্ষের অবস্থানই এখন স্পষ্ট হওয়ায় আগামী কয়েক মাস বিশ্ব ফুটবলে এ বিষয়টি অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।


মন্তব্য