৫ দিন খেলতে নেমে ৪ দিনেই ইতিহাস
- বাংলাকন্ঠ রিপোর্ট
- প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৬ PM , আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৬ PM
ডারউইন টেস্টের প্রথম দিন থেকেই চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা।
বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য জয়টি ছিল অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত। অতীতের নানা হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কারণে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনেকেই জয় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে এবার কোনো নাটকীয়তায় না গিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
দুই মাস আগেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের একাদশের সাতজনই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের দলে। প্রস্তুতি ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে এমন দাপুটে জয় ছিল অনেকের কাছেই অকল্পনীয়।
বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি তৈরি করে দেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৫ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি। তাঁর বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায়।
এরপর ব্যাট হাতে বাংলাদেশের শঙ্কা দূর করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি করেন তানজিদ। শান্তর ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৮৪ রান। মাঝপথে ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর ব্যাটিংয়ে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বড় লিড নিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে আরও চাপে ফেলে। টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৮ রানের বেশি লিড বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে মাত্র দুইবার ছিল আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সেই তালিকায় যুক্ত হলো নতুন নজির।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলতে আবারও শুরুটা করেন হাসান মাহমুদ। তবে এবার মূল নায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একে একে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন তিনি।
ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়ালেও শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস থামে ২৮৪ রানে। বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক উইকেট হারালেও কোনো বিপদ হতে দেয়নি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ভর করে ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
এই জয় শুধু একটি টেস্ট ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়, তাও চার দিনজুড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে—বাংলাদেশের ক্রিকেটে যোগ হলো নতুন এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।