স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন হাতছাড়া বাংলাদেশর
- বাংলাকন্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ PM , আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ PM
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে বাংলাদেশের। মুস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারে ৪১ রান তুলে নির্ধারিত সময়ের ৯ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। ফলে স্বর্ণপদকের লড়াই নিশ্চিত করেছে তারা। অন্যদিকে, ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ ধরে রাখতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে লিটন দাসের দলকে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কে টস হেরে আগে ব্যাট করে ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
স্লো উইকেটে বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্য কঠিন হতে পারে বলে মনে হলেও বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দল। বিশেষ করে মুস্তাফিজের দুই ওভারেই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। স্পিননির্ভর উইকেটে শুরুতে দুই প্রান্ত থেকে স্পিনার দিয়ে বোলিং করায় বাংলাদেশ। প্রথম তিন ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ২০ রান তোলে পাকিস্তান।
এরপর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক লিটন দাস। ওই ওভারের প্রথম দুই বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকান সাইম আইয়ুব। যদিও ওভারের শেষ বলে আইয়ুবকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ, ততক্ষণে পাকিস্তান ম্যাচে ফেরার রসদ পেয়ে যায়।
দলীয় ৫৩ রানে উসমান খান আউট হলে বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়। রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী দুই প্রান্ত থেকে রান নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। তবে দশম ওভারে আবার মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন লিটন। ওই ওভারে ২৩ রান দেন এই বাঁহাতি পেসার। আব্দুল সামাদ দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকানোর পর টানা চারটি চার মারেন। ফলে শেষ তিন ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন নেমে আসে মাত্র ১৩ রানে।
শেষ পর্যন্ত ৯ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ এবং সাইম আইয়ুব ১২ বলে ২১ রান করেন। নাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৭ রান। বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি; তিন ওভারে দেন ৩৩ রান।
এর আগে বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে ব্যাটিংয়েও সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। চার দিনের বেশি সময় উইকেট কাভারের নিচে থাকায় স্পিনারদের দিয়ে বেশির ভাগ ওভার করায় পাকিস্তান। চার ওভারের পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
দলের বিপর্যয়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন তাওহীদ হৃদয়। ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। হৃদয়ের সঙ্গে জুটি গড়ে ৪৩ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে দুজনই কাছাকাছি সময়ে আউট হওয়ায় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। হৃদয়, সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থ হন। তিন বলে মাত্র দুই রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। একপর্যায়ে ৬.৩ ওভারে ৪৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের স্পিনার সুফিয়ান মুকিম তিন ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। তবে ১৩ ওভারের ম্যাচে পাকিস্তানের বোলাররা ১৫টি ওয়াইড দেওয়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ কিছুটা বাড়ে।
এই হারে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারালেও বাংলাদেশের সামনে পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।