যশোরে জামায়াত এমপির বাড়িতে হামলা

যশোর
  © সংগৃহীত

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এবং তাঁর মেয়েকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাঁর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এমপির বাসভবন ঘেরাও করলে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাসভবনের ভেতরে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোলাম রসুলের বাসভবনের সামনে অবস্থিত আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরোধ চলছিল। সোমবার (২৭ জুলাই) এমপির মেয়ে অনন্যা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শাসন করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপাতত মীমাংসা করা হয়েছিল।

তবে মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে আবার মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে নতুন করে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় অনন্যা তালা দিয়ে আঘাত করলে রেক্সোনা নামে এক নারী আহত হন। এছাড়া নাসির উদ্দিন নামে এক অভিভাবকের সঙ্গেও তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এমপির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। কয়েকজন বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পরিস্থিতির একপর্যায়ে অধ্যাপক গোলাম রসুল ফেসবুক লাইভে এসে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা চান। তিনি বলেন, মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা তাঁদের নিজস্ব মালিকানাধীন এবং এ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তিনি সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানান।

লাইভে তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর মেয়ে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং ভারতের হায়দরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করানো হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাসভবনে হামলার আশঙ্কা করছেন।

ঘটনার বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, আগের দিনের বিরোধের জের ধরেই মঙ্গলবার নতুন করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী বিচার দাবিতে এমপির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংসদ সদস্য ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

ফেসবুক লাইভে এমপির দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে ওসি বলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য নেই।

এদিকে সামাজিকযোগাযোগমাধ্য এ ঘটনা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে অভিযোগ তুলেছেন, স্থানীয়দের বেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে জামায়াত এমপির বাড়িতে হামলা করেছে।


মন্তব্য