দুদকের অভিযান

বাসার পরতে পরতে বিলাসীতার প্রতিযোগিতা

দুদক
  © সংগৃহীত

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রীর সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার শুরু হওয়া অভিযানে ফ্ল্যাট দুটির মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

দুদকের প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, প্রায় ১০০ সেট কামিজ, বেড, সোফাসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাব। এছাড়া মার্সিডিজ-বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবিও উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, এটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের রোলেক্স সেলিনি (মডেল-৫০৫১৯), যা ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের হ্যারডস থেকে কেনা হয়েছিল। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়িটির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে একই মডেলের ঘড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদকের কর্মকর্তারা। অভিযানে তাদের সঙ্গে গুলশান থানা পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল ফ্ল্যাট দুটির ইনভেন্টরি প্রস্তুত করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান জানান, প্রথম দিনের কাজ শেষে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা করা হয়েছে। ইনভেন্টরির কাজ সোমবারও চলবে। সব কার্যক্রম শেষ হলে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দখলে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশের জন্য তালা ভাঙতে হয়েছে। দুদকের ধারণা, কিছু মূল্যবান সামগ্রী আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পালন করবে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির দাবি, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং ৩০টি মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।


মন্তব্য