দেশের বাজারে বেড়েছে, বিশ্ববাজারে কমে ১১ দিনে সর্বনিম্ন

জ্বালানি তেল
  © সংগৃহীত

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রলের দাম ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানানো হয়। নতুন দাম রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও গত পাঁচ মাস দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি রয়েছে।

এদিকে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বিশ্ববাজারে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল গত ১১ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআিই)  উভয়ের দাম কমেছে।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ১৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআই প্রতি লিটারে ২ দশমিক ১৫ ডলার কমেছে। আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে এবং প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হচ্ছে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বররের পর এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।  

জ্বালনি পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে এই সপ্তাহে হয়তো কোনো কূটনৈতিক পথ বেরিয়ে আসবে—এমন আশার কারণে তেলের দাম থেকে কিছুটা ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা ঝুঁকিজনিত বাড়তি মূল্য সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।"

“সেই আশা কতখানি যৌক্তিক, তা অবশ্য ভিন্ন প্রশ্ন। সময়ই তা বলে দেবে।”

চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী; উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পেজেশকিয়ানের এই সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে আসার কথা রয়েছে।

শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ফের আলোচনায় বসতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্তাবলী তুলে ধরেছে ইরান।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তারা শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উত্তোলন ও বিপনন কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। স্থাপনাটি লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর ইয়ানবুতে অবস্থিত এবং তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে, যা তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় এতদিন ইয়ানাবু থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করত সৌদি; কিন্তু কয়েক দিন আগে আরামকোর পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হুথিদের হামলার কারণে ইয়ানাবু থেকে তেলের চালান পাঠানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ এবং তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করছে।


মন্তব্য