বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে যা করতে চান স্পর্শিয়া

স্পর্শিয়া
  © সংগৃহীত

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া নিজের মতো করে অভিনয়ের পথ এগিয়ে নিতে চান। গল্প ও চরিত্রের বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন অভিনয় করে যেতে চান তিনি। কাল্পনিক চরিত্রের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের চরিত্রেও সমানভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

স্পর্শিয়ার ভাষায়, ‘আমি মানুষের গল্প বলতে চাই। কাল্পনিকের পাশাপাশি বাস্তব চরিত্রেও সমানভাবে কাজ করে যেতে চাই। যাতে বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে নানা চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারি।’

নানা ধরনের গল্প ও চরিত্র পর্দায় তুলে ধরার মধ্য দিয়েই অভিনয়জগতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চান স্পর্শিয়া। সম্প্রতি ‘লালপরী’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সেই আগ্রহের আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া গেছে। নির্মাতা জোবায়ের আবীর পিয়ালের এ নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকটিতে দর্শক তাঁকে ভিন্ন এক রূপে দেখেছেন।

‘লালপরী’ নাটকে অভিনয়ের জন্য গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে স্পর্শিয়া বলেন, সময়ের সঙ্গে সমাজে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা যখন গল্প ও চরিত্রে রূপ নেয়, তখন সেসব গল্পের প্রতি তাঁর আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এসব চরিত্রকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে তিনি সবসময় প্রস্তুত বলেও জানান।

স্পর্শিয়ার মতে, বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজের মধ্য দিয়েই একজন অভিনয়শিল্পী নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ পান। তাই ভবিষ্যতেও ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্রে কাজ করে যেতে চান তিনি।

অভিনয় নিয়ে অর্চিতা স্পর্শিয়ার যে চিন্তাধারা, তা সমসাময়িক অনেকের সঙ্গে মেলানো সম্ভব নয়। কারণ আমরা তাকে দেখি— জনপ্রিয়তার দৌড়ে অংশ না নিয়ে নিজের মতো করে কাজ করে যেতে, যা দেখা দেয়, ভিন্নরকম গল্প ও চরিত্রে পর্দায় উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে। সবসময় তার দৃষ্টি থাকে পরিণত শিল্পী হওয়ার পথে। 

টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে নির্মাতাদের নজর কাড়তে খুব একটা সময় লাগেনি অর্চিতা স্পর্শিয়ার। শত তরুণীর মাঝে যে একজন অভিনেত্রীর বসবাস, তা বুঝতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নির্মাতাদের। পর্দায় তার স্বতন্ত্র উপস্থিতি আর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মনে ছাপ ফেলে চলেছেন। তাই নাটক, টেলিফিল্ম থেকে শুরু করে ওয়েব সিরিজ ও সিনেমাতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন তিনি। 

অবশ্য স্পর্শিয়াকে নিয়ে নতুন করে এ কথাগুলো না বললেও চলে। কারণ তিনি দর্শকদের কাছে বহুমুখী অভিনয়ের জন্য পরিচিত। সেই পরিচিতি গড়ে তুলতে পাড়ি দিতে হয়েছে দেড় দশকের দীর্ঘ পথ। যদিও যাত্রা শুরু হয়েছিল বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে। দুই-তিনটি নাটকে কাজ করার পর থেমে থাকার অবকাশ ছিল না অভিনেত্রীর। দিন দিন বেড়ে চলেছে তার কাজের পরিধি। পর্দায় স্বতন্ত্র উপস্থিতি আর সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। 

অর্চিতা স্পর্শিয়া বলেন, বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে অভিনয় জগতে পা। তখনো জানা ছিল না, অভিনয় জগতের সফরটা কতটা দীর্ঘ হবে। সত্যি এটাই শুরুর কাজগুলো হয়ে উঠেছিল ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। যে কারণে আর পিছু তাকাতে হয়নি। 

তিনি বলেন, সুযোগ এসেছে নাটক, সিনেমা সব মাধ্যমে কাজ করার। তা করতে গিয়ে কখন যে দেড় দশক পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছি, বুঝতে পারিনি। সাধারণ দর্শক হয়তো জানেন না, এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকাটা বড় চ্যালেঞ্জ। যে টিকে থাকতে পারে, সেই জয়ী। আমি যে এখনো টিকে আছি, সেটিই আমার কাছে বড় সাফল্য।

যেখানে চোখ রাখলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে— ‘ঘূর্ণিপাক’, ‘দূরত্ব’, ‘অসহায়’, ‘এলগরিদম’, ‘লাভ স্টোরি’, ‘এই গল্পের নাম কী’, ‘জার্নি বাই রোমান্স’, ‘লাভ উইন টার্ন’, ‘সুবর্ণপুর বেশি দূরে নয়’, ‘নূর’, ‘সুইট ফ্যামিলি’, ‘চিরকুট’, ‘মন ছুঁয়ে’, ‘মায়ের বিয়ে’, ‘লাল মাংসের ঝোল’, ‘গুন্ডা’, ‘ক্রেজি লাভার’, ‘ক্রিটিসাইজ’, ‘যদি আমার না হও’, ‘জুতা নিজ দায়িত্বে রাখবেন’, ‘শেষটা তুমি’, ‘মিরাকল অব লাভ’, ‘প্রতিদান’, ‘এক্স বয়ফ্রেন্ডস ওয়েডিং’, ‘রংবাজ’, ‘কী কথা তাহার সাথে’, ‘মাই ব্যাড বয়’, ‘দ্য ফ্যামিলি’, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’, ‘পথের সাথীকে চিনে নিও’ থেকে শুরু করে ‘লালপরী’ পর্যন্ত প্রতিটি নাটকে নতুন রূপে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া।

এর বাইরেও সিনেমা ‘এখানে নোঙর’, ‘ছক’, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কাঠবিড়ালি’ ও ‘নবাব এলএলবি’-এ অভিনয় করে প্রমাণ করেছেন, অভিনয়ের ভুবনে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছা আছে তার। না, শুধু টিকে থাকা নয়, অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক প্রশংসা কুড়ানোর মধ্য দিয়ে পথচলাকে মসৃণ করে তোলার।


মন্তব্য