কাঁপছে মোদির সিংহাসন!

মোদি
  © সংগৃহীত

তীব্র হচ্ছে আন্দোলন, মোদির কপালে চিন্তার ভাজ

পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে বিস্তৃত হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকা সমাবেশে হাজারো আন্দোলনকারী অংশ নেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার পর আন্দোলন আরও গতি পেয়েছে।

আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল এবং সরকারের সমালোচনাকে দেশদ্রোহিতা হিসেবে দেখা হতো, সেই দেশকে আমরা আবার জাগিয়ে তুলেছি।”

বিরোধী দলগুলোর সমর্থন

মূলত তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের প্রতি মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়। একই দিন বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পুলিশের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে মঙ্গলবার তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য আটক করে দিল্লি পুলিশ। বুধবার কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হয়ে তিনি সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন।

সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, দেশের কোটি তরুণের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নীরব রয়েছেন।

যেভাবে শুরু আন্দোলন

গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতে এক শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করলে তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

পরবর্তীতে বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা খাতে অনিয়ম এবং সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণের মতো বিষয়ও আন্দোলনের দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির লাখো অনুসারী রয়েছে।

পুলিশি অভিযান নিয়ে সমালোচনা

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে বিক্ষোভকারীরা সংসদ অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

এএফপিকে ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কাব্য বলেন, “আমি ভয় পেয়েছি। সোমবার পুলিশকে আন্দোলনকারীদের মারধর করতে দেখেছি। কিন্তু আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।”

সরকারের সংস্কারের আশ্বাস

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) ও অন্যান্য জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এছাড়া অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষা খাতে সংস্কার এবং বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, “শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের জবাবদিহি, সংস্কার এবং দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে নিশ্চয়তা, স্লোগানের পরিবর্তে সমাধান এবং সংঘাতের পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা পাওয়ার যোগ্য।”

দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও সিজেপির ডাকে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এএফপি


মন্তব্য