ভারতে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ PM , আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ PM
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে আয়োজিত এ আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলনের পরিধিও বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিরাপত্তার কারণে ফের বন্ধ ১৬ মেট্রো স্টেশন
বিক্ষোভে জনসমাগম বাড়তে থাকায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আবারও ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)।
বৃহস্পতিবার সকালে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে।
এর আগের দিন বুধবারও একই ১৬টি স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রায় আট ঘণ্টা পর সেগুলো চালু করা হলেও বৃহস্পতিবার সকালে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
দিল্লির জন্তর মন্তরে গত দুই মাস ধরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য উইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক অফিসগামীকে বাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আবার অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্যাক্সিক্যাব ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন।