মার্কিন ভিসা নিয়ে সুখবর
- বাংলাকণ্ঠ ডেস্ক
- প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ PM , আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ PM
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতি বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে ওই নীতি জারি করেছিলেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এ রায় দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত ওই নীতিকে ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রায়ে বিচারক বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে কোনো দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করা প্রচলিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেও অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে।
জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নীতির আওতায় ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে এবং বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়াসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ ছিল।
তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছিল।
ভিসানীতি বাতিলের রায়টি আসে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি সংগঠনের করা মামলায়। মামলায় ওই ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য আবেদন করা কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন।
রায়ের বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এসব নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, কঠোর অভিবাসননীতির ফলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বৈষম্য, হয়রানি এবং যথাযথ আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।